ষ্টাফ রিপোর্টার:
মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার আধারা ইউনিয়নের কালিরচর গ্রামসংলগ্ন মেঘনা নদীর পাড় ঘেঁষে অবৈধভাবে বালু তোলার অভিযোগে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ফসলি জমি ও বসতভিটা রক্ষায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ধাওয়া দিলে দুইটি ড্রেজার পুড়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জেলা প্রশাসনের অনুমোদিত ভাসানচর বালু মহালের ইজারাদারের লোকজন কয়েকদিন ধরে কালিরচর গ্রামের পাশে নদী থেকে বালু তুলছিলেন। এতে নদীতীরবর্তী জমি ও বসতভিটায় ভাঙন দেখা দেওয়ার আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন গ্রামবাসী। শুক্রবার সকালে উত্তেজিত জনতা ড্রেজারগুলোতে ধাওয়া দিলে বেশ কয়েকটি পালিয়ে যায়। তবে থেমে থাকা দুইটি লোড ড্রেজারে গ্রামবাসী আগুন ধরিয়ে দেয়।
ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ইজারার এলাকা ভাসানচর মৌজায় হলেও ড্রেজার মালিকরা কালিরচর মৌজায় বালু তুলছিলেন। এতে রেকর্ডভুক্ত তিন ফসলি জমি ও বসতভিটার ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এ কারণে গ্রামবাসী বাধ্য হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
কালিরচর গ্রামের প্রবীণ খলিল মিজি বলেন, “আমাদের বাপদাদার সম্পত্তি নদীগর্ভে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাই গ্রামবাসী জমি রক্ষায় বাধা দিয়েছে।”
এ গ্রামের গৃহবধূ রিনা বেগম বলেন, “বাড়িঘর ভেঙে গেলে আমরা কোথায় গিয়ে থাকব? সাধারণ মানুষের কষ্টের কথা কেউ ভাবছে না। আমরা অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে স্থায়ী প্রতিকার চাই।”
এদিকে, ঘটনাটির পরপরই উপজেলা প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করে। সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ কে এম হাসানুর রহমান জানান, নদীর পাড় ঘেঁষে বালু তোলার দায়ে দুই ড্রেজার শ্রমিককে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দুই লাখ টাকা জরিমানা আদায় করে ছেড়ে দেওয়া হয়।
চরআব্দুল্লাহ নৌ-ফাঁড়ির ইনচার্জ মাহবুব আলম বলেন, “নদীর পাড় ঘেঁষে বালু তোলা যাবে না। এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
অন্যদিকে, ভাসানচর বালু মহালের ইজারাদার জিএস মনিরুজ্জামান মনির দাবি করেছেন, তারা প্রশাসনের নির্ধারিত সীমানার ভেতর থেকেই বালু উত্তোলন করছেন।

















