মুহাম্মদ আশিকুর রহমান:
আধুনিক বিশ্বে পরিবেশ দূষণ, বন উজাড় ও জলবায়ু পরিবর্তন মানবজাতির জন্য এক ভয়ঙ্কর সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ ইসলাম বহু আগেই পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে। বৃক্ষরোপণ শুধু একটি সামাজিক বা পরিবেশগত দায়িত্ব নয়, বরং ইসলামি দৃষ্টিতে এটি একটি ইবাদত, সদকায়ে জারিয়া এবং মানবতার সেবার মাধ্যম।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বৃক্ষরোপণের ফজিলত সম্পর্কে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছেন।
হাদীসে এসেছে:
“যদি কিয়ামত কায়েম হয়ে যায় আর তোমাদের কারো হাতে একটি খেজুর গাছের চারা থাকে, যদি সে কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার আগেই তা রোপণ করতে পারে, তাহলে যেন রোপণ করে দেয়।”
— (মুয়াত্তা মালিক,)
এই হাদীসের মাধ্যমে বোঝা যায়, সময় যত সংকটপূর্ণই হোক না কেন, একটি গাছ লাগানোর কাজ কখনো তুচ্ছ নয় বরং অত্যন্ত মূল্যবান।
অন্য আরেকটি হাদীসে নবী (সা.) বলেন:
“যে কোনো মুসলমান একটি গাছ রোপণ করে, অতঃপর তা থেকে মানুষ, পাখি বা পশু খায়— তাহলে তা তার জন্য সদকা হিসেবে গণ্য হয়।”
— (সহীহ বুখারী ও মুসলিম)
ইসলামে বৃক্ষরোপণকে একটি চলমান সওয়াব বা সদকায়ে জারিয়া হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। অর্থাৎ গাছ যতদিন বেঁচে থাকবে এবং তার দ্বারা অন্য প্রাণী উপকৃত হবে, ততদিন সেই ব্যক্তির আমলনামায় সওয়াব যুক্ত হতে থাকবে। যদি তিনি দুনিয়া থেকে চলে যান।
একটি গাছ অক্সিজেন দেয়, বৃষ্টির জন্য সহায়ক হয়, প্রাণিকুলের আবাসস্থল তৈরি করে এবং মাটির ক্ষয় রোধ করে। গাছ মানুষকে ছায়া দেয়, ফল দেয়, কাঠ দেয়—একটি গাছের উপকার অনন্তকালব্যাপী।
তাই হয়তো ইমাম গাজালী (রহঃ) তাঁর বিখ্যাত “ইহ্যাউ উলুমিদ্দীন”-এ লিখেন:
“যে কাজের মাধ্যমে বহু সৃষ্টির উপকার হয়, তা শুধু দুনিয়াবি নয় বরং আখিরাতের জন্যও সঞ্চয়। গাছ তার অন্যতম।
ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা, যেখানে পরিবেশ ও প্রকৃতির প্রতি দায়িত্ববোধের জায়গাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজকের এই বিপর্যস্ত পৃথিবীতে গাছ লাগানো আমাদের ধর্মীয় কর্তব্য, মানবিক দায়িত্ব ও সামাজিক সচেতনতার পরিচায়ক।

















